বাইডেনকে চ্যালেঞ্জ দিলো মিয়ানমার সেনাপ্রধান !

বাইডেনকে চ্যালেঞ্জ দিলো মিয়ানমার সেনাপ্রধান !

সোমবার মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাপ্রধান এশিয়ায় চীনের স্বৈরতান্ত্রিক মডেলের বিরোধিতা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে একটি পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এ কথা তুলে ধরেছে।

এই বছর বাধ্যতামূলক অবসরে যাবেন জেনারেল মিন অং হ্লাং। রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা পরিচালনার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। কিন্তু চীন তাকে সম্মান জানিয়েছে।
গত মাসে এক ৬৪ বছরের জেনারেলের সঙ্গে এক বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই উভয় দেশকে ‘ভাই’ বলে উল্লেখ করেন এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ‘জাতীয় পুনরুজ্জীবনের’ প্রশংসা করেছেন।

‘ড্রাগন’স শ্যাডো: সাউথইস্ট এশিয়া ইন দ্য চাইনিজ সেঞ্চুরি’ বইয়ের লেখক সেবাস্টিয়ান স্ট্রাঞ্জিও বলেন, নিশ্চিতভাবে অভ্যুত্থানের মূল্য দিতে হবে। কিন্তু সেনাবাহিনী মনে করছে তা শোধ করতে পারবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলি দেখিয়ে দিয়েছে চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তি, পশ্চিমে গণতান্ত্রিক বিপথগামিতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক অর্থে এজেন্ডা প্রণয়নের নৈতিক কর্তৃত্ব আর নেই।

চীনের উত্থান মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো এশিয়ায় বেইজিংয়ের একদলীয় শাসনের বিপরীতে মুক্ত ও স্বাধীন গণতন্ত্রের পক্ষে ফেরি করা। তবু গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালার মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দেশে প্রভাব হারিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে।

যার নির্বাচনে হারের ফলে মার্কিন কংগ্রেস ভবনে ভয়াবহ হামলা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী নিপীড়ন সমর্থন করে উৎখাত হওয়া মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি’র গণতন্ত্রের প্রতীক বড় ধাক্কা খেয়েছে। তবু এখন মার্কিন কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররা রয়েছে।

দলের অপর নেতাদের সঙ্গে বন্দি হওয়া সু চি দেশটির ৫ কোটি ৫০ লাখ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ‘সামরিক স্বৈরশাসনের’ বিরোধিতা করার জন্য। এখন ব্যাপক জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে মিয়ানমারের জেনারেলদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে উভয় সংকটে পড়েছেন জো বাইডেন। দেশটি নব্বইয়ের দশকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞায় ছিল।

হোয়াইট হাউজ এরইমধ্যে হুমকি দিয়েছে আগের অবস্থায় ফিরে না গেলে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া পদক্ষেপ নিতে আরও চাপে পড়বে মার্কিন প্রশাসন। সিনেট ফরেন রিলেশন্স কমিটির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর বব মেন্ডেজ সামরিক নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।

সামরিক অভ্যুত্থান নিয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া ছিল নীরব। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন মিয়ানমারকে বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করে সব পক্ষকে যথাযথভাবে পার্থক্য ঘুচানোর আহ্বান জানিয়েছেন। গত বছরের শেষ পর্যন্ত চীন ছিল মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী।

দেশটির এক-তৃতীয়াংশ বাণিজ্যও বেইজিংয়ের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তা দশগুণ বেশি। এরপরও চীন সু চি’র সমর্থকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এড়ানোর সতর্ক চেষ্টা করবে। গত মাসে সর্বশেষ সফরে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং সু চি’র সঙ্গে বৈঠক করেন এবং আলোচনা করেন কীভাবে ভারত মহাসাগরে বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পে সহযোগিতা করা যায়।

স্টিমসন সেন্টারের চায়না প্রোগ্রামের পরিচালক ইয়ুন সুন বলেন, চীনাদের জন্য বার্মার (মিয়ানমার) রাজনীতি ভঙ্গুর ও বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় ভরা। চীন আগেও ভুগেছে। অপর এশীয় দেশগুলোও নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে। আর যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারকে নিন্দা জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে অবস্থান নিয়েছে।

সামরিক শাসন থাকাকালেও বেশিরভাগ এশীয় দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সম্প্রতি জাপান ও কয়েকটি দেশ পণ্য উৎপাদনে থাইল্যান্ডের বিকল্প হিসেবে নেপিদোতে বিনিয়োগ করছে।

আরো পড়ুন-কোলের শিশুকে ব্রিজ থেকে অথৈ পানিতে ফেলে দিলেন মা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাশিমবাজার সংলগ্ন একটি ব্রিজ থেকে অথৈই পানিতে কোলের শিশুকে ফেলে দিলেন এক মা। পানিতে পড়ে ১৫ মাসের ওই শিশুটি ভাসতে থাকে অনেকক্ষণ। পরে পথচারী এবং এলাকাবাসী শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে।

শিশুটি এখন স্থানীয় রফিকুল ইসলাম এবং এলিনা দম্পতির কাছে রয়েছে। এলিনা শিশুটিকে তার বুকের দুধও পান করিয়েছেন। শিশুটি এখন সুস্থ আছে। তবে শিশুটির মা জমিলা বেগম শিশুটিকে ফেলে দিয়েই নিজ বাড়িতে পালিয়ে যায়।

জমিলা বেগমের দাবি, এক বছর আগে দুই মাসের সন্তান জাহিদকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি রংপুর থেকে বিতাড়িত হয় সে। পরে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের পূর্বকেদার গ্রামের দরিদ্র পিতা জয়নাল মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। দিনমজুর বাপের বাড়িতে অভাব-অনটন থাকায় তার সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে প্রায়ই দ্বন্দ্ব হতো। সন্তানের খাবার এবং খরচ চালাতে মাঝে মধ্যে তাকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হতো। এসব থেকেই সন্তানকে পানিতে ফেলে দেয়ার চিন্তা আসে তার।

জমিলার পিতা জয়নাল জানান, সকালে আমি ও আমার ছেলে মাটি কাটতে এসেছি। মাটিকাটার স্থানের অদূরে মানুষের কোলাহল শুনে জানতে পারলাম আমার মেয়ে জমিলা তার ছেলে জাহিদকে পানিতে ফেলে দিয়েছে। কী কারণে এরকম কাজ করল তা আমি জানি না।

তিনি আরও জানান, দুই বছর আগে রংপুরের মডার্ন মোরের ভর্ত কবিরাজের ছেলে হাফিজুলের সঙ্গে জমিলার বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের এক বছর পরেই দুই মাসের কোলের শিশুকে নিয়ে সংসার ভাঙ্গে জমিলার। এ সময় জাহিদকে নিয়ে তার বাড়িতে ফিরে আসে জমিলা। এদিকে তিন সন্তান নিয়ে বড় মেয়ে জরিনা তার সংসারে ফিরে এসে মাথার বোঝা হয়ে আছে আগেই।

সব মিলিয়ে নয় সদস্যের পরিবারে ভরণপোষণ অসাধ্য হয়ে উঠে জয়নালের। দিনমজুরি করে এ বিশাল সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে।

জমিলার মা জবেদা বেগম জানান, প্রায়ই জমিলার সন্তান নিয়ে পরিবারে অশান্তি লেগে থাকতো। তার খরচ চালাতে চাইতো না জমিলার বাবা।

জমিলার বৃদ্ধা নানি সুফিয়া বেওয়া জানান, তার ভিক্ষাবৃত্তির চাল দিয়ে মাঝে মধ্যে জমিলার সন্তানের খরচ চলতো। তবে জমিলা তার সন্তানের জন্য অনেক নির্যাতন সহ্য করেছে। এসব নির্যাতন থেকে বাঁচতে আজকে সন্তানকে পানিতে ফেলে দিয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, শুক্রবার জমিলা দুই কেজি চাল সবার আড়ালে বিক্রি করে শিশুর জন্য খাবার ও তেল সাবান কিনে আনলে তার বাবা রাগান্বিত হয় এবং জমিলাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে। মনের দুঃখে অবুঝ শিশুকে নিয়ে হতাশ জমিলা বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কাশিমবাজার সংলগ্ন একটি ব্রিজের ২০ ফিট নিচে অথৈই পানিতে ফেলে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী দুলাল হোসেন সন্তোষ জানান, সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে তিনি ওই পথে বাজারে যাচ্ছিলেন। এ সময় ব্রিজটির উপরে উঠলে একটি নারীকে কিছু পানিতে ফেলতে দেখে। কিছু পড়ার শব্দ শুনে নিচে তাকিয়ে দেখে একটি শিশু পানিতে ভাসছে এবং হাত-পা নাড়াচ্ছে। দিগ্বিদিক না তাকিয়ে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। তার চিৎকারে স্থানীয় ফরিদুল ইসলাম এবং একজন পথচারী এগিয়ে আসেন। ব্রিজ থেকে নেমে পানি সাঁতরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে তারা।

তিনি জানান, শিশুটিকে উদ্ধার করতে তাদের ২০ মিনিট সময় লাগে। এ সময় ধরে শিশুটি পানিতে ভাসতে থাকে। উদ্ধারের পর আগুন জ্বালিয়ে তাপ দিয়ে শিশুটিকে সুস্থ করা হয়। এ সময় ব্রিজের পাশের বাড়ির রফিকুল ও এলিনা বেগম দম্পতি শিশুটিকে হেফাজতে নেন।

এলিনা বলেন, শিশুটিকে তার বুকের দুধ খাওয়ানো হয়েছে। শিশুটিকে তিনি লালন পালন করতে চান।

বলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান জানান, শিশুটি আপাতত রফিকুল ও এলিনা বেগম দম্পতির কাছে রয়েছে। তাকে তার মায়ের কাছে ফেরত দেয়া হবে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা জানান, বিষয়টি আমি কিছুক্ষণ আগে জানতে পেরেছি। চেয়ারম্যানকে ফোন দিয়েছিলাম, খোঁজখবর নিয়ে ওই পরিবারকে সহযোগিতা দেয়া হবে।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *